my country Bangladesh very very nice place video .
Sunday, December 21, 2014
Friday, December 12, 2014
নিদ্রা হোক প্রশান্তির
নিদ্রা হোক প্রশান্তির
রাজ্জাক
'যে কোনো সময় চলে যেতে পারি।' খলিল ভাইয়ের এই কথাটা আমাকে কত রাত ঘুমাতে দেবে না সেটা বলতে পারছি না। মৃত্যুর তিনদিন আগে তিনি ফোন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন কেমন আছি? কী করছি? আমি যখন জানতে চাইলাম আপনি কেমন আছেন? তখনই এই কথাটা বলে আমার মনটাই খারাপ করে দিয়েছিলেন। এখন তিনি নেই। ভরাট কণ্ঠে আর কেউ ফোন করে জানতে চাইবে না আমি কেমন আছি? কী করছি? এটা মানতে পারছি না। মনের ব্যাথাটা লাঘব করার জন্য মাঝে-মধ্যে চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছা করে খলিল ভাই, আপনি ছাড়া ভালো থাকা যায় না।
খলিল ভাই ছিলেন আমার অভিভাবক। বয়সে আমার থেকে আট বছরের বড় হলেও তিনি নিজেকে কখনও বড় মনে করতেন না। তিনি যেমন আমার বন্ধু ছিলেন, তেমনি আমার দুই ছেলে বাপ্পা ও সম্রাটেরও বন্ধু ছিলেন। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমাদের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করি। একই সময়ে খলিল ভাইও চলচ্চিত্রে আসেন। কিন্তু আমাদের আলাপ হয় আরও অনেক পরে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মজিবুর রহমান মজনুর 'গুণ্ডা' ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে খলিল ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। প্রথম দেখাতেই তাকে অনেক আপন মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল এই জগতে একজন বড়ভাই পেয়ে গেছি। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। তারপর কখন যে সেটি পারিবারিক সম্পর্কে রূপ নেয় তা বলতে পারব না। তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতটা ঘনিষ্ঠ যে, কোনো অনুষ্ঠান কিংবা উৎসবে তাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারতাম না। ঈদ উপলক্ষে আমার সঙ্গে দেখা করতে বাসায় এসেছিলেন, সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি অসুস্থ থাকাকালীন অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন আমাকে। যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না, তখন তিনিই ছিলেন একমাত্র ভরসা। অসম্ভব যুক্তি দিয়ে তিনি যে কোনো বিষয়ের সমাধান করে দিতেন। শুধু আমি নই, চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক ছিল পরিবারের মতো। কারণ চলচ্চিত্র ছিল আমাদের আরেক পরিবার।
১৯৯৯ সালে আমার নির্দেশনায় 'সন্তান যখন শত্রু' ছবিতে শেষবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করি। ছবির সেটে সারাদিন তিনি আমাদের মাতিয়ে রাখতেন। আমার 'রাজলক্ষ্মী' প্রতিষ্ঠান থেকে যত ছবি মুক্তি পেয়েছে, তার প্রতিটিতে অভিনয় করেছেন খলিল ভাই। এর অবশ্য আলাদা কারণও আছে। অভিনয়ের উসিলায় দু'জন কাছাকাছি থাকতে পারতাম। গল্প-গুজবে সময়টা পার হয়ে যেত, আবার কাজটাও সুন্দর হতো। ছবির বিভিন্ন বিষয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতাম।
আমাদের অভিনয় জীবনে মজার অনেক ঘটনা আছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে 'বেঈমান' ছবির কথা বলতে হয়। ছবিতে তিনি আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। সেটে আমরা দু'জন এক জায়গায় হলেই সবাই হাসাহাসি শুরু করত। কারণ হাজার হোক প্রায় সমবয়সী তো! বাবার চরিত্র করতে গিয়ে তাকে একটু মুড নিতে হতো। কিন্তু যেই না মুডি মুডি ভাব, অমনি আমাকে দেখলে তার হাসি চলে আসত। 'বদনাম', 'প্রফেসর', 'অভিযান', 'প্রেমের নাম বেদনা'সহ অসংখ্য ছবির কথা মনে পড়ছে। এত স্মৃতি রেখে খলিল ভাই আমার আগে চলে যাবেন_ ভাবিনি! আমি ভাবিনি, কখনও তাকে নিয়ে আমাকে বলতে হবে বা লিখতে হবে। তিনি আমাদের একজন আদর্শ অভিনেতা ছিলেন। আমি চাই, তার অভিনীত সব ছবি যেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণ করা হয়। কারণ পরবর্তী প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে এই গুণী অভিনেতার কাছ থেকে। দোয়া করি, ওপারে তার আত্মা যেন শান্তিতে থাকে। তিনি ভালো থাকুন। হ
অনুলিখন : ফয়সাল আহমেদ
খলিল ভাই ছিলেন আমার অভিভাবক। বয়সে আমার থেকে আট বছরের বড় হলেও তিনি নিজেকে কখনও বড় মনে করতেন না। তিনি যেমন আমার বন্ধু ছিলেন, তেমনি আমার দুই ছেলে বাপ্পা ও সম্রাটেরও বন্ধু ছিলেন। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় আমাদের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করি। একই সময়ে খলিল ভাইও চলচ্চিত্রে আসেন। কিন্তু আমাদের আলাপ হয় আরও অনেক পরে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে মজিবুর রহমান মজনুর 'গুণ্ডা' ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে খলিল ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয়। প্রথম দেখাতেই তাকে অনেক আপন মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল এই জগতে একজন বড়ভাই পেয়ে গেছি। সেখান থেকেই বন্ধুত্বের শুরু। তারপর কখন যে সেটি পারিবারিক সম্পর্কে রূপ নেয় তা বলতে পারব না। তিনি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতটা ঘনিষ্ঠ যে, কোনো অনুষ্ঠান কিংবা উৎসবে তাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারতাম না। ঈদ উপলক্ষে আমার সঙ্গে দেখা করতে বাসায় এসেছিলেন, সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি অসুস্থ থাকাকালীন অভিভাবকের মতো আগলে রাখতেন আমাকে। যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম না, তখন তিনিই ছিলেন একমাত্র ভরসা। অসম্ভব যুক্তি দিয়ে তিনি যে কোনো বিষয়ের সমাধান করে দিতেন। শুধু আমি নই, চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক ছিল পরিবারের মতো। কারণ চলচ্চিত্র ছিল আমাদের আরেক পরিবার।
১৯৯৯ সালে আমার নির্দেশনায় 'সন্তান যখন শত্রু' ছবিতে শেষবারের মতো একসঙ্গে অভিনয় করি। ছবির সেটে সারাদিন তিনি আমাদের মাতিয়ে রাখতেন। আমার 'রাজলক্ষ্মী' প্রতিষ্ঠান থেকে যত ছবি মুক্তি পেয়েছে, তার প্রতিটিতে অভিনয় করেছেন খলিল ভাই। এর অবশ্য আলাদা কারণও আছে। অভিনয়ের উসিলায় দু'জন কাছাকাছি থাকতে পারতাম। গল্প-গুজবে সময়টা পার হয়ে যেত, আবার কাজটাও সুন্দর হতো। ছবির বিভিন্ন বিষয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতাম।
আমাদের অভিনয় জীবনে মজার অনেক ঘটনা আছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে 'বেঈমান' ছবির কথা বলতে হয়। ছবিতে তিনি আমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। সেটে আমরা দু'জন এক জায়গায় হলেই সবাই হাসাহাসি শুরু করত। কারণ হাজার হোক প্রায় সমবয়সী তো! বাবার চরিত্র করতে গিয়ে তাকে একটু মুড নিতে হতো। কিন্তু যেই না মুডি মুডি ভাব, অমনি আমাকে দেখলে তার হাসি চলে আসত। 'বদনাম', 'প্রফেসর', 'অভিযান', 'প্রেমের নাম বেদনা'সহ অসংখ্য ছবির কথা মনে পড়ছে। এত স্মৃতি রেখে খলিল ভাই আমার আগে চলে যাবেন_ ভাবিনি! আমি ভাবিনি, কখনও তাকে নিয়ে আমাকে বলতে হবে বা লিখতে হবে। তিনি আমাদের একজন আদর্শ অভিনেতা ছিলেন। আমি চাই, তার অভিনীত সব ছবি যেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সংরক্ষণ করা হয়। কারণ পরবর্তী প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার আছে এই গুণী অভিনেতার কাছ থেকে। দোয়া করি, ওপারে তার আত্মা যেন শান্তিতে থাকে। তিনি ভালো থাকুন। হ
অনুলিখন : ফয়সাল আহমেদ
Subscribe to:
Posts (Atom)